পড়ুয়া ও লেখাপড়ার বদল
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: লেখাপড়ার প্রভাব ভিন্নমুখী। বর্তমান সময়ে সন্ধ্যার পর আর পড়াশুনার শব্দ শোনা যায় না। পাল্লা দিয়ে বই পড়া এখন আর চোখে পড়ে না। সেই পুরনো দিনটা আর নেই। এখনকার সময় কোনও মাতা-পিতা তাঁদের সন্তানদের বলে না যে, “ওই বাড়ির ছেলেটা পড়ছে আর তুই বসে রয়েছিস।”
৫-৬ বছর আগেও সন্ধ্যাবেলায় বই পড়ার আওয়াজ কানে আসতো। পরীক্ষার সময় হলে এই শব্দ আরও জোরালো হতো। মেধাবী থেকে সাধারণ পড়ুয়াদের বই পড়ার আওয়াজ ভেসে আসতো। পরীক্ষার আগে গভীর রাত পর্যন্ত পড়ার অভ্যাস ছিল পড়ুয়াদের মধ্যে। এখন সেই প্রবণতা একেবারেই কমে এসেছে।
ভোরে বা শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠে পড়ার অভ্যাসও আর নেই। তৎকালীন সময়ে এই জন্যই অ্যালার্ম ঘড়ির আলাদা কদর ছিল। আবার পড়ুয়াদের বড় কোনও পরীক্ষার আগে সাজেশনের খুব কদর ছিল। সাজেশনস নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলতো ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে। এখন সেই ভাবনা হয়ে গিয়েছে প্রাচীন।
পড়াশুনার চল কমেছে। চলনেরও বদল এসেছে। এখনকার সময়ে পড়ুয়ারা সন্ধ্যার পর মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এটাই পড়াশুনার ধরণ-ধারন। প্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে। প্রযুক্তিতে সামনে রেখে পড়ুয়ারা এগিয়ে চলেছে। অনলাইন ক্লাসের প্রচলন। পড়ার শব্দ নেই। শুধু দেখার বিষয়টি রয়েছে। অনলাইন,অফলাইন, গ্রুপ চ্যাটিং, গেমস,পাব্জি, ফ্রী ফায়ার, টিকটক সহ বেশ কিছু শব্দ শোনা যায় আধুনিক পড়ুয়াদের মুখে।
অন্যদিকে আধুনিক সমাজে পড়ুয়া ছাত্রদের মাথার চুলের কার্টিং-এর পরিবর্তন ঘটেছে। পাড়া-মহল্লায় ও বাজারে আড্ডাবাজি-গ্রুপিং এসব দেখা যায়। শিক্ষা গুরুকে অসম্মান করা ও শিক্ষা অঙ্গনে নিয়ম ভাঙ্গা প্রভৃতিও রয়েছে। তবে এর মধ্যেই ভালো পড়ুয়ারা মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে। সময়ের বদল এলেও।
(ছবি: সংগৃহীত)

